ভারতের পক্ষে বর্তমান মিসাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট ধ্বংসের মাধ্যমে যুদ্ধে জয়লাভ কি সম্ভব!
যেসব স্যাটেলাইট, মিশাইল ছুঁড়ে নষ্ট করার কথা এখন বলা হচ্ছে, সেগুলি সবই পৃথিবীর অত্যন্ত নীচু কক্ষপথে চলায়মান। মূলত তিন প্রকার কক্ষপথে সমস্ত স্যাটেলাইট পৃথিবী কে আবর্তন করে। এগুলি হল ক) লোয়ার আর্থ অরবিট ( LEOপৃথিবী থেকে ২০০০কিমি উচ্চতা অবধি), খ) মিডিয়াম আর্থ অরবিট (MEO ২০০০ কিমির বেশি থেকে ৩৫৭৮৬ কিমি অবধি উচ্চতা), এবং গ) হাই আর্থ অরবিট (HEO ৩৫৭৮৬ কিমি এর বেশি উচ্চতা) । List of orbits - Wikipedia
যে ক্ষয়প্রাপ্ত স্যাটেলাইটটি ভারত ধ্বংস করেছে তা হল ৩০০ কিমির অত্যন্ত নিচু কক্ষপথে চলমান একটি স্যাটেলাইট। কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট কিন্তু এই স্তরে রাখা হয়না। কারণ- Low Earth orbit - Wikipedia
1. এই স্তর পৃথিবীর খুব কাছাকাছি থাকায় এখান থেকে পৃথিবীর দৃশ্যতা (Field of View) খুবই কম। তাই এই স্তরে ভাল দৃশ্যতা পাওয়ার জন্য একগুচ্ছ (Constellation) স্যাটেলাইট একসঙ্গে কাজ করা দরকার অর্থাৎ উঁক্ষেপনকারী দেশ কে একসঙ্গে ২৫-৩০ টি বা তার বেশিও স্যাটেলাইট একসঙ্গে উৎক্ষেপণ করতে হবে।
2. এই স্তরে স্যাটেলিটগুলি দ্রুত উচ্চতা হারায়। ফলে এগুলি কে সময় সময়ে রিবুস্ট করতে হয় যাতে এদের কক্ষপথের উচ্চতা ও সাম্যতা বজায় থাকে অথবা সময়ে সময়ে পুরোনো ক্ষয়প্রাপ্ত স্যাটেলাইট এর জায়গায় নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হয়।
3. এগুলিকে সহজেই আন্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল (ABM) বা ইন্টার কন্টিনেটাল ব্যালিস্টিক মিসাইল(ICBM) ছুঁড়ে ধ্বংস করা যায় যেমনটি ভারত করেছে এবং এই কাজ চালু টেকনোলজি ব্যবহার করেই করা যায় যে টেকনোলজি পৃথিবীর অনেকগুলি দেশের কাছেই রয়েছে।
তবে এই LEO স্তরে উৎক্ষেপণ এর সুবিধা হল উচ্চতা কম থাকায় কম ক্ষমতা সম্পন্ন রকেট কম জ্বালানি খরচ করে উৎক্ষেপণ করা যায়। LEO স্যাটেলাইট এর আরেকটি সুবিধা হল কম উচ্চতায় থাকার কারণে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে কম ক্ষমতার ট্রান্সমিটারের সাহায্যেই এই স্যাটেলাইটগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভম। ফলে এগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থার অঙ্গ হিসাবে অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয় ।
কিন্তু সহজে ধ্বংস করা সম্ভব হওয়ায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট, যেমন সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট, GPS স্যাটেলাইট ইত্যাদি LEO স্তরে উৎক্ষেপণ না করে HEO কক্ষপথে স্থাপিত করা হয় । ভারতের GSAT - 7 হলো এমনই একটি সামরিক উদ্দেশে ব্যবহৃত স্যাটেলাইটে যেটি HEO এ ৩৫৭৭৯ কিমি থেকে ৩৫৮০৬ কিমি উচ্চতায় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। GSAT-7 - Wikipedia । স্যাটেলাইটটি ৩০ অগাস্ট ২০১৩ য় উৎক্ষেপণ করা হয়।
এখানে একটি কথা বোঝার প্রয়োজন আছে যে HEO অবস্থিত কোনো স্যাটেলাইটকেই কোনো ICBM দ্বারাও ধ্বংস করা যায় না কারণ এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মারক দূরত্বের ICBM, ১৫০০০ কিমি অবধি আঘাত হানতে পারে ।Comparison of ICBMs - Wikipedia
সুতরাং ২৭শে মার্চ ২০১৯, যে স্যাটেলাইট ধ্বংস করা হয়েছে তা আমার মতে একেবারেই Prototype এবং তা কোনো সামরিক গুরুত্বের স্যাটেলাইট ধ্বংস করার পথে কোনো বড় পদক্ষেপ বলেও আমার মনে হয়নি কারণ প্রায় ৩৬০০০ হাজার কিলোমিটার দূরে HEO অবস্থিত এইসব সামরিক গুরুত্ব পূর্ণ স্যাটেলাইট ধ্বংস করার ধারে কাছের কোনোও প্রযুক্তি পৃথিবীর কোনো দেশেরই নেই। সুতরাং যারা ভাবছেন যে স্যাটেলাইট-ধ্বংশ প্রযুক্তি দিয়ে যুদ্ধ সহজেই জেতা যাবে সেই কল্পনা এই সময়কালে আকাশ-কুসুমই বলাযেতে পারে নির্দ্বিধায়।
Comments
Post a Comment